বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত

বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে পণ্যটির দাম গড়ে বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে পণ্যটির দাম গড়ে বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগের দুই নিলামে এসব পণ্যের দাম যথাক্রমে ১ দশমিক ৯ ও ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল। খবর এনজেড হেরাল্ড, এগ্রিল্যান্ড।

ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। টনপ্রতি মূল্য পৌঁছেছে ৩ হাজার ৯৮৪ ডলারে। এর আগের দুই নিলামেও পণ্যটির দাম যথাক্রমে ৩ দশমিক ২ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জিডিটির সর্বশেষ নিলামে অন্যান্য পণ্যের দামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননি ছাড়া গুঁড়া দুধ। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম আগের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে। টনপ্রতি মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ২ হাজার ৮৪৮ ডলার।

এর আগের নিলামে ল্যাকটোজ বেচাকেনা হয়নি। তবে সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ল্যাকটোজের দাম ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৯১০ ডলার।

জিডিটির সর্বশেষ নিলামে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৭ হাজার ৫৮৩ ডলার। আগের নিলামে এটি ১ শতাংশ বেড়েছিল।

জিডিটির এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি কমেছে মাখনের দাম। ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে টনপ্রতি গড় মূল্য ৬ হাজার ৬৮০ ডলারে নেমেছে।

মোজারেলা পনির ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে টনপ্রতি গড় মূল্য হয়েছে ৪ হাজার ১২০ ডলার। বাটার মিল্ক পাউডারের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি টনে মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৩ হাজার ১৫২ ডলার এবং চেডার পনিরের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৮৯ ডলারে।

দুগ্ধপণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। দুগ্ধপণ্য দেশটির অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। কারণ দেশটির জিডিপির বড় একটি অংশ আসে এসব পণ্য থেকে। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়লেও বিক্রি কমেছে। এবারের নিলামে মোট ৩৩ হাজার ৬৩০ টন পণ্য কেনাবেচা হয়েছে, আগের নিলামে যা ছিল ৩৬ হাজার ২৪৪ টন।

এদিকে গত ১১ নভেম্বর ফন্টেরা ২০২৪-২৫ মৌসুমের ফার্মগেট দুধের মূল্যের পূর্বাভাস আবার সংশোধন করেছে। এ সময় এটি কেজিএমএসে (কিলোগ্রাম অব মিল্ক সলিডস) ৯-১০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, আগের পূর্বাভাসে যা ছিল কেজিএমএসে ৮ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে ৯ ডলার ৭৫ সেন্টে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় আগামী বছর তরল দুধ উৎপাদন আরো বাড়তে পারে। রাবোব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‌ আবহাওয়ার উন্নতি ও ফার্মগেট দুধের দাম বাড়তে থাকায় এ খাতে ২০২৫ সালের জন্য আশাবাদ তৈরি করছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, চলতি বছর দুধ উৎপাদন দশমিক ৩ শতাংশ ও আগামী বছর দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

আরও